Home » বিজ্ঞান-প্রযুক্তি » প্রযুক্তি মানুষকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যায় -অধ্যাপক অরুণোদয় সাহা
প্রযুক্তি মানুষকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যায় -অধ্যাপক অরুণোদয় সাহা

প্রযুক্তি মানুষকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যায় -অধ্যাপক অরুণোদয় সাহা

আবু আলীঃ একান্ত সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক অরুণোদয় সাহা  বলেন প্রযুক্তি মানুষকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যায়,  ত্রিপুরায় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সমন্বয় এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন ঘটানোর লক্ষে উচ্চশিক্ষা রাজ্য পর্ষদ রয়েছে। এই পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক অরুণোদয় সাহা। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সমন্বয় এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন ঘটাতে বিশেষ ভ‚মিকা রাখতেই তাকে এ পদে নিয়োগ দিয়েছে রাজ্য। বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদ অত্যন্ত খোলা মনের মানুষও বটে। সারাজীবন কাটিয়ে দিয়েছেন শিক্ষা অর্জন এবং শিক্ষার প্রসারে। তার ইচ্ছা শেষ অবধি শিক্ষার আলোই ছড়িয়ে যাবেন তিনি।

মহান এ শিক্ষাবিদ ১৯৪৮ সালের ৪ ফেব্রæয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। পড়াশোনা করেছেন উমাকান্তি স্কুল, কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়েছেন অ্যামেরিকার য়ুটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে। তিনি সুনামের সাথে দেশে এবং বিদেশে অধ্যাপনা করেছেন । ২০০৭ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, গবেষক ও লেখকও বটে। ইতিমধ্যে তিনি বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ত্রিপুরার মহারাজাদের অনালোকিত সম্পর্ক নিয়ে তিনি নিটোল গল্প লিখেছেন। গল্পগ্রন্থের নাম ‘রাজা ও কবি’। এছাড়া অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘চলার পথে’, ‘কথায় কথায়’ উল্লেখযোগ্য। শিক্ষার আলো ছড়ানোই এ মহান শিক্ষকের ব্রত।

গত ৭ সেপ্টেম্বর শনিবার নিজ দফতরে শিক্ষার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা হয় ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক অরুণোদয় সাহার সঙ্গে। তিনি বলেন, শিক্ষা মানুষকে প্রযুক্তির কাছে নিয়ে যায়। আর প্রযুক্তি মানুষকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যায়। আধুনিকতা মেনে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, মানবসম্পদ সবার ওপরে। এটি বিকাশে অনুক‚ল পরিবেশ প্রয়োজন। অনুক‚ল পরিবেশ না থাকলে মানবসম্পদ বিকাশিত হবে না। তবে প্রযুক্তির যুগে অনেক মেধানী সন্তান অসম প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। এজন্য সমাজের বিত্তবান ও সমাজপতিরে এগিয়ে আসতে হবে। তাকে মেধা বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। তিনি এ সময় উদাহরণ টেনে বলেন, একজন শক্তিশালী মানুষ পায়ে হেঁটে যতদ্রæত ও যতদূর যেতে পারবেন তারবেশি কম সময়ে বেশি দূর যেতে পারবেন একজন দুর্বল মটরযান চালক। এজন্য তিনি শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তির সম্মিলন ঘটানোর পরামর্শ দেন।
এ সময় মহান শিক্ষাবিদের সঙ্গে কথা হয় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে। বাংলাদেশের প্রতি তার যথেষ্ট দুর্বলতা রয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সখ্যতা রয়েছে। তিনি বলেন, ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের অর্থনীতির মধ্যে খুব বেশি তফাৎ নেই। দুই দেশের মানুষের মনমানষিকতাও প্রায় একই। তিনি বলেন, আমাদের এ অঞ্চল আসলেই গড গিফটেড। সবুজ ও ঊর্বর জমি রয়েছে। কিন্তু এরমধ্যেও দারিদ্রতা রয়েছে। সবকিছু আছে। তারপরও অনেকে দুবেলা খেতে পায় না। আমাদের যথেষ্ট সম্পদ রয়েছে। কিন্তু এগুলোর যথাযথ ব্যবহার হয় না। এজন্য তিনি উভয় দেশের সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরত্বারোপ করেন।

লাইক ও শেয়ার করুন:
BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes
Scroll Up
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error: Content is protected !!