Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!
Home » সংবাদ শিরোনাম » সোনারগাঁয়ে সিজার করে গজ কাপড় “ব্যান্ডেজ” রেখেই কাটাস্থান সেলাই রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাংচুর
সোনারগাঁয়ে সিজার করে গজ কাপড় “ব্যান্ডেজ” রেখেই কাটাস্থান সেলাই রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাংচুর

সোনারগাঁয়ে সিজার করে গজ কাপড় “ব্যান্ডেজ” রেখেই কাটাস্থান সেলাই রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাংচুর

মোঃ কবির হোসেন,(সোনারগাঁ) নারায়ণগঞ্জঃনারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ভুল চিকিৎসায় আমান্তিকা নামের এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতাল (ক্লিনিক) ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ স্বজনরা।৯ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতাল নামের একটি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।আমান্তিকার স্বজনরা ক্লিনিকের পরীক্ষাগার, মেশিনপত্র, গ্লাস, দরজা জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে।ঘটনার পর ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুদ্ধ স্বজনদের বিচারের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। নিহত আমান্তিকার স্বামী মোঃ পিন্টু মিয়া বাদীতে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়েরর প্রস্তুতি চলছে। সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কাউকে পাওয়া যায়নি।জানা যায়, উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বড় সাদিপুর গ্রামের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী আমান্তিকা গর্ভবতী হলে সিজার নিয়মিত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার বিকেলে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সোনারগাঁ জেনারেল ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. নূরজাহান বেগম ওইদিন রোগীকে সিজার করার পরামর্শ দেন এবং নিজেই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার সিজার করেন।এসময় আমান্তিকার একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। তারাহুড়া করে সিজারের পর ওই রোগীর পেটে গজ কাপড় (ব্যান্ডেজ) রেখেই ডা. নূরজাহান কাটা স্থান সেলাই করে দেয়। সিজারের পর আমান্তিকা অবিরত বমি ও পেটে অস্বস্থি হয়ে পেট ফুলে যায়। পুনরায় ডাক্তারের কাছে নিয়ে আসলে সে নারায়ণগঞ্জ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়। ডাক্তার নূরজাহান কেয়ার হাসপাতালে গিয়ে পুনরায় ওই রোগীর সিজার করিয়ে জরায়ু কেটে ফেলেন।

রোগীর অবস্থার অবনতি হলে কেয়ার হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকার গেন্ডারিয়া আজগর আলী হাসপাতালে প্রেরণ করা হওয়ার পর সোমবার ভোরে সে মারা যায়।আমান্তিকার মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিহত আমান্তিকার লাশ একটি এম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসে সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতালের সামনে। এসময় রোগীর বিক্ষুদ্ধ স্বজনরা ক্লিনিকে গিয়ে হাসপাতালের পরীক্ষাগার, মেশিনপত্র, গ্লাস ও দরজা জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

নিহত আমান্তিকার স্বামী মোঃ পিন্টু মিয়া জানান, বন্দর উপজেলার কল্যাণদী গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে আমান্তিকার সাথে ২০১৮ সালের ৩রা আগষ্ট তার বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছরের মাথায় ডাক্তারের ভূল চিকিৎসার জন্য তার স্ত্রীকে হারাতে হয়েছে। তিনদিনের মাথায় তার কন্যা সন্তান এতিম হয়েছে। এ হত্যাকান্ডের বিচার দাবী করে দোষী ডাক্তারকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবী করেন তিনি।

নিহতের বাবা সোহেল মিয়া জানান, শুক্রবার আমার মেয়েকে সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ডাক্তার সিজার করার পরামর্শ দেন। জরুরি সিজার না করলে মা ও পেটের সন্তান মারা যাবে বলে জানিয়েছেন। ডাক্তারের কথা অনুযায়ী আমরা সিজারের সিদ্ধান্ত নেই। ওইদিন ডাক্তার নূরজাহান আরো ৪টি সিজার করেছেন,পাশাপাশি রোগীর দীর্ঘ লাইন। ডাক্তার তাড়াহুড়া করে সিজারের পর পেটে গজ কাপড় রেখে সেলাই করায় আমার মেয়ের মৃত্যু হয়। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীকে গ্রেফতার করে বিচার দাবী করছি।সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ভাংচুর হয়েছে। বিক্ষুদ্ধ স্বজনদের পুলিশ বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

লাইক ও শেয়ার করুন:
BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes
Scroll Up
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
FACEBOOK
FACEBOOK
TWITTER
error: Content is protected !!