Home » রাজনীতি » বঙ্গবন্ধুকে যারা অস্বীকার করে তারা মানচিত্রকে অস্বীকার করে: বি. চৌধুরী
বঙ্গবন্ধুকে যারা অস্বীকার করে তারা মানচিত্রকে অস্বীকার করে: বি. চৌধুরী

বঙ্গবন্ধুকে যারা অস্বীকার করে তারা মানচিত্রকে অস্বীকার করে: বি. চৌধুরী

আওয়াজ অনলাইন : যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান, বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গন্ধুকে যারা অস্বীকার করে, তারা বাংলাদেশের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে, মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে, বাংলাদেশের মানচিত্রকে অস্বীকার করে। ২০ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদত্ বার্ষিকী উপলক্ষে বিকল্পধারা বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

বিকল্পধারার বাড্ডার কার্যালয়ে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সচিব শমসের মবিন চৌধুরী বীরবিক্রম-এর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব:) আবদুল মান্নান এমপি, বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম সরোয়ার মিলন, মজহারুল হক শাহ চৌধুরী, ড. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় জনতা লীগের চেয়ারম্যান ওসমান গণি বেলাল, জনদলের মহাসচিব সেলিম আহমেদ, বিকল্প ধারার সহসভাপতি মাহমুদা চৌধুরী, এনায়েত কবীর, যুবধারার কেন্দ্রীয় সভাপতি আসাদুজ্জামন বাচ্চ, বিকল্পধারার নেত্রী আয়েশা সিদ্দিকাী নওয়াব বাহাদুর প্রমুখ।

সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বি চৌধুরী আরো বলেন, ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু একটা চক্রান্ত বাস্তবতা। এই বঙ্গন্ধুকে যারা অস্বীকার করে, তারা বাংলাদেশের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে, মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে, বাংলাদেশের মানচিত্রকে অস্বীকার করে। তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর যেখানে যখন মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্ন উঠবে, স্বাধীনতার প্রশ্ন উঠবে, গণতন্ত্রের প্রশ্ন উঠবে- বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ না করে কেউ পারবে না।

ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর জীবন থেকে তাদের প্রেরণা নিতে হবে। মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও তিনি স্বাধীনতার দাবি থেকে পিছু হটেননি। সারা পৃথিবীতে এমন দৃষ্টান্ত খুব বিরল। তিনি আরো বলেন, সাত মার্চের ভাষণ পৃথিবীর ইতিহাসে অমূল্য সম্পদ। এ´টেম্পো ভাষণটি অসাধারণ। এটা ইউনেস্কোও স্বীকৃতি দিয়েছে। দেশের মানুষের জন্য তার ভালোবাসা ছিলো সীমাহীন। এটা অস্বীকার করা যাবে না।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যারা অস্বীকার করবে, তারা বাংলাদেশকেই অস্বীকার করে। বঙ্গবন্ধুকে যারা শ্রদ্ধ করে না, তারা দেশের মানুষকেও শ্রদ্ধা করে না। তারা মুক্তি সংগ্রামকেও শ্রদ্ধা করে না। বঙ্গবন্ধু বিরুদ্ধবাদিদের প্রতি কখনো ঘৃণা প্রকাশ করতেন না। আমরাও মনে করি ঘৃণা করে কেউ বড় হবে না। শ্রদ্ধা করে কেউ ছোট হয় না। বিকল্পধারার এটা একটা নীতি।

অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর দেশেপ্রেম মানে মানচিত্রের প্রতি যেমন ভালোবাসা, মানুষের প্রতিও তেমনি ভালোবাসা। এটা অনেক রাজনীতিবিদ বোঝে না। বঙ্গবন্ধু এটা অন্তর দিয়ে উপলদ্ধি করতেন। দেশের মানুষকে এবং দেশকে সমার্থকভাবে তিনি ভালোবেসেছেন। তার সবচে বড় সাহস দেশপ্রেমের মধ্যে মানুষকে ভালোবাসার মধ্যে। তার সবচে’ বড় দুর্বলতা সেটাই। এই অসাধারণ দেশপ্রেমিক মানুষটি বাংলাদেশের মানুষের মনে চির জাগরুক হয়ে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বঙ্গন্ধুর আদর্শ থেকে এক পাও পিছু না হটার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনার মধ্যে অনেকগুণ আছে, যেটা বঙ্গবন্ধুর সাথে মিলে যায়। আমরা আশা করি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে আপনি প্রেরণা পাবেন। তিনি বলেন, শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই শেষ কথা নয়, দেশের দরিদ্র মানুষ যেন সুখ থাকতে পারে শান্তিতে থাকতে পারে আপনাতে তা নিশ্চিত করতে হবে। হ্যাপিনেস ইনডেক্সে যেন বাংলাদেশ উত্তীর্ণ হতে পারে, শান্তি সুখের দেশে পরিণত হতে পারে।

বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব:) আবদুল মান্নান এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধুর তিন বছরের শাসনামল দেখেন, অনেকেই অনেক রকম বলেন, কিন্তু প্রকৃতচিত্র ইতিহাসে লেখা হবে। আমি বলতে পারি ১৫ আগষ্ট যদি না হতো, বাংলাদেশের ইতিহাস ভিন্ন হতো। নেলসন ম্যান্ডেলার পর তিনি ছিলেন বিশে^র বিরল নেতা। আজ বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ । বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এই অর্জন অনেক আগেই সম্ভব হতো।

সভাপতির ভাষণে শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্র চেয়েছিলেন। শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান চেয়েছিলেন। কিন্তু সামরিক শাসকরা তা চায়নি। সাত মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি যে চার দফা দবি তুলে ধরেন, সেখানে বলেন, বাংলার মাটিতে যে কটা হত্যাকান্ড ঘটেছে বাংলার মাটিতে তার বিচার করুন, তা নাহলে মুক্তি ও স্বাধীনতা। ইয়াহিয়া খানকে বলেছিলেন, আসুন দেখুন… আজকে কী দেশে সেই রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলার অবস্থা আছে? বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হলে রাজনৈতিক ভাষায় সভ্যতা ভব্যতা আনতে হবে।

বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যুক্তফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক গোলাম সরোয়ার মিলন বলেন, সরকারের অনেক অর্জন থাকলেও আজকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বলতে হয়, দায়িত্বশীল কোন বিরোধী দল বাংলাদেশে নেই। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাদ দিয়ে এদেশে কোন রাজনীতি চলতে পারে না। তিনি আরো বলেন, নির্বাচন নিয়ে, ফলাফল নিয়ে যা কিছু হয়েছে, সেসব আর বলতে চাই না। বঙ্গবন্ধুকে যারা স্বীকার করে না তাদেরকে বাদ দেওয়ার জন্য আমরা মহাজোটে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম।

বিকল্পধারার সহ সভাপতি এনায়েত কবীর বঙ্গবন্ধুর নামে টুঙ্গিপাড়া অথবা বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে একটি রাজনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহাবান জানান।
/এইচ.

লাইক ও শেয়ার করুন:
BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes
Scroll Up
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error: Content is protected !!