ভৈরবে স্বামীর অপরাধে শিশুসহ অসহায় স্ত্রীকে গ্রেফতার।

এম আর ওয়াসিম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ  কিশোরগঞ্জের ভৈরবে গাঁজা সেবন ও বেচাকেনার অপরাধে স্বামী খোকা মিয়া (৪৫) কে বাড়িতে না পেয়ে দুধের শিশু সহ স্ত্রী শিরিনা বেগম (৩৫) কে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (নারকোটিস) ভৈরব সার্কেলের সদস্যরা। মামলার সূত্রে খোকা মিয়ার ও শিরিনা বেগম মাদক ব্যবসা করে। তাদের ঘর থেকে তল্লাশী করে ১ কেজি গাঁজা পাওয়া গেছে। পরে শিরিনাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫০০ টাকা অর্থদন্ড সহ ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান  করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)হিমাদ্রি খীসা।

এসময় গ্রেফতারকৃত শিরিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামীর অত্যাচারে আমি অতিষ্ঠ। অনেক কষ্টে দিন যাপন করছি। এমন কোন দিন নেই যে আমার স্বামী আমাকে শারীরিক নির্যাতন করে না।  আমি আমার ছেলে-মেয়ে নিয়ে নিজেরাই যতটুটু আয় রোজগার করি, তা দিয়ে কোন ভাবে সংসার চালায়। আমার স্বামী গাঁজা সেবন করে তা আমি জানি। কিন্তু আমি মেয়ে মানুষ হয়ে কি করতে পারব? কিছু বলতে গেলে আমার উপর আরো

 

বেশী নির্যাতন করে। এই মহা বিপদের মাঝে তারা আমার স্বামীকে না পেয়ে আমাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। আমাকে টানা হেচড়া করে নিয়ে আসার সময় তারা বলে যে, তুকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেলেই তোর স্বামী আসবে। হাজতে এক বছরের শিশু কোলে নিয়ে কাদঁতে কাদঁতে শিরিন অভিযোগের কন্ঠে বলে যে, আমারে ৬ মাসের জেল দিয়া দিছে, কই আমার স্বামী তো আসলো না। অপরাধ করছে আমার স্বামী, আমাকে কেন গ্রেফতার করে সাজা দেয়া হয়ছে? আমি তো তিন সন্তান নিয়ে এমনিতেই খুব কষ্টে দিন পার করছি। একদিকে স্বামীর নির্যাতন ভোগ করছি অপর দিকে তার অপরাধের সাঁজা আমি কেন ভোগ করব। আমি মাননীয় সরকারের কাছে এই অবিচারের শাস্তি দাবী করছি।

এবিষয়ে এলাকাবাসী জানায় খোকা মিয়া গাঁজা সেবক করে জানি কিন্তু মাদক বেচাকেনার বিষয়টি আমরা জানি না। তবে তার বউ শিরিনা বেগম কন্সট্রাকসন কাজে লেবার হিসেবে কাজ করে তিন সন্তান নিয়ে কোন রকমে জীবন-যাপন করছে তা জানি। সে কোন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত না। স্বামী খোকা মিয়াকে গাঁজা সেবনে বাধা দেয়ায় অধিকাংশ সময শিরিনা বেগম শাররীক ও মানসিক নির্যাতন পোহাতে হয়।

স্বরেজমিনে গিয়ে শিরিনা বেগমের দুই স্কুল পড়ুয়া সন্তান লোকমান ও শিলা বেগমের নিকট জানে চাইলে তারা বলে গতকাল বুধবার দুই জন লোক সস্তায় ১ কেজি গাঁজা বিক্রি করার কথা বলে। আমার মা উত্তর দেয় যে আমার স্বামী এখন এসব সেবন করে না। আপনারা চলে যান। তারা চলে যায়। কিছুক্ষন পড়ে আবার আইনের লোক পরিচয় দিয়ে ঘর তল্লাশী করে দুইটা নারকেলের ছুকলা পায়। এসময় আমাদের বাবাকে না পেয়ে মাকে টেনে হেছরা করে কোথায় যেন নিয়ে যায়। এসময় আমাদের ঘর থেকে কোন মাদক তারা পায়নি।

ভৈরব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অফিসের পরিদর্শক মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে এধরনের আরও অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েকমাস আগে উপজেলার দুটি গ্রাম থেকে শেফালী বেগম ও নার্গিস বেগম নামের দুই মহিলাকে আটক করে একইভাবে মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছে। কয়েকমাস আগে সম্ভুপুর এলাকায় কালা মিয়া নামের এক মাদক সেবনকারীর বাড়ীতে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার মেয়ে শান্তা বেগমের বেতনের ১১ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে আসে।

 

ঘটনাটি শান্তা বেগম তখন তার বিরুদ্ধে  উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করে। এর আগে কালিকাপ্রসাদ এলাকার এক মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করার পর তার গরু বিক্রির ১০ হাজার টাকা মাসুদুর রহমান নিয়ে আসে। অভিযোগ রয়েছে  স্হানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে পরিদর্শক মাসুদুর রহমানের রয়েছে মাসিক চুক্তি। আর চুক্তির টাকা নিয়মিত না দিলেই তিনি ক্ষেপে গিয়ে এসব ঘটনা ঘটিয়ে থাকেন।

শিরিনা বেগমের বৃদ্ধ বাবা হেলিম মিয়া এই প্রধিনিধিকে জানান, আমার জামাই গাঁজা সেবন করে কিন্ত কোলের শিশুসহ মেয়েটিকে গ্রেফতার করে সাজা দিল মাদকের অফিসার। ঘটনার সময় তিন পুটলা গাঁজা পায় ঘরে কিন্ত এক কেজি গাঁজার অভিযোগ আনা হয় যা সম্পূর্ন মিথ্যা বানোয়াট বলে তিনি দাবী করেন।

এবিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে কর্মকর্তা জনাব মাসুদুর রহমানের সাথে মুঠো ফোনে কথা বলতে চাইলে একাধিকবার ফোন করলেও ফোন টি রিসিভ করেননি তিনি। স্বরেজমিনে আজ বৃহস্পতিবার সকালে অফিসে গেলে অফিসটি তালা বদ্ধ পাওয়া যায়। এমন কি তার মুঠোফোনে বার বার ফোন করেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি)  জনাব মোঃ শাহিন জানান, মাদকদ্রব্য অফিসের কর্মকর্তারা শিরিনা বেগমকে আটক করার পর ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা দিয়ে তাকে থানায় সোপর্দ করেছে। বিষয়টির ব্যাপারে আমাদের কিছুই বলার  নেই।