মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশী রায়হান কবিরের নিরাপত্তা ও মুক্তির দাবীতে আওয়াজ ফাউন্ডেশনের সমাবেশ

আওয়াজ অনলাইনঃ ঢাকা, ২৮ জুলাই, ২০২০:  মালয়েশিয়ায় অভিবাসী কর্মীদের ওপর চলামান নির্যাতনের উপর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরায় প্রচারিত প্রতিবেদনে স্বাক্ষাতকার দেয়ার অপরাধে গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশী তরুণ রায়হান কবিরের নিরাপত্তা ও মুক্তির দাবীতে শ্রমজীবি মানুষের সংগঠন আওয়াজ ফাউন্ডেশন আজ এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসকে রায়হান কবীরকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আহবান জানানো হয়।

পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ঢাকাস্থ মালয়েশিয়ান হাইকমিশনারকে ডেকে উদ্বেগের কথা জানানোর আহবান জানান। আইওএম, আইএলওসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে রায়হান কবীরের নিরাপত্তা ও মুক্তির দাবীতে সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

আওয়াজ ফাউন্ডেশনের অপারেশন ডিরেক্টর নাহিদুল হাসান নয়নের সভাপতিত্বে মাইগ্রেশন ডিরেক্টর আনিসুর রহমান খান প্রতিবাদ সমাবেশে সংক্ষিপ্তভাবে ঘটনা তুলে ধরে বলেন,  গত ৩ জুলাই লকডআপইন মালয়েশিয়ান লকডাউন-১০১ইস্ট-শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে আল-জাজিরা। এতে দেখানো হয়, মালয়েশিয়া সরকার মুভমেন্ট কনট্রোল অর্ডার (এমসিও) এ রমাধ্যমে মহামারির সময়ে অভিবাসীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।আলজাজিরার প্রতিবেদনে অভিবাসীদের প্রতি মালয়েশিয়ার নিপীড়েনের যে ছবি উঠে এসেছে সেটা নিন্দনীয় ও গভীর উদ্বেগের। আওয়াজ ফাউন্ডেশন ১১ জুলাই অন্যান্য সমমনা অভিবাসী সংগঠনের সাথে এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি এই ধরনের অভিযোগগুলো তদন্তের আহবান জানিয়েছিল।

আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি,আল জাজিরার প্রতিবেদনে সাক্ষাতকার দেওয়ায় বাংলাদেশি তরুণ মো. রায়হানকবিরের (২৫) ব্যক্তিগত তথ্য চেয়ে সমনজারি ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয় প্র্রশাসন। আমরা পরিস্কার করে বলতে চাই, গণমাধ্যমে সাক্ষাতকার দেওয়া কোন অন্যায় নয়। আর রায়হান কোন অপরাধও করেননি। অথচ এমনভাবে মালয়েশিয়া বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাকে খুঁজছে যেন সে বড় অপরাধী। এর মধ্যেই ২৪ জুলাই ২০২০, শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় মালয়েশিয়ার পুলিশ। আমরা রায়হানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

আমরা মালয়েশিয়ার সকল মানবাধিকার সংস্থা আইনজীবী, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ করছি। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনকে তৎপর হয়ে রায়হান কবিরের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা দেওয়াসহ যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছি।