বগুড়া ধুনটে পরিচয় গোপন করে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে যুবলীগে অনুপ্রবেশ; বিব্রত আ’লীগ

এম.এ রাশেদ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার ধুনটে পরিচয় গোপন করে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে যুবলীগে অনুপ্রবেশ করেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে রাজিবুজ্জামান রাজিব নামে এক ব্যক্তি। অনুপ্রবেশের পর থেকেই যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি, অর্থ আত্মসাত, আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আওমীলীগ নেতাকে কুপিয়ে আহত সহ আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে একের পর এক কু-রুচিপূর্ণ অশালীন বক্তব্য ফেসবুকে পোষ্ট করে সমালোচনায় এসেছে রাজিবুজ্জামান।

তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও অজ্ঞাত কারনে পুলিশ তাকে গ্রেফতার না করায় তার বেপরোয়া কর্মকান্ড আরো বেড়ে গেছে। এতে বিব্রত অবস্থায় পড়েছে আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ সহ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরাও। অনুসন্ধানে জানাগেছে, ধুনট সদর অফিসারপাড়া এলাকার মৃত আমিনুল ইসলামের ছেলে রাজিবুজ্জামান রাজিব। ২০১১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির অঙ্গ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবকদলের ধুনট পৌরশাখার সাংগঠনিক সম্পাদক পদের মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতি শুরু করে সে।

তারপর থেকেই বিএনপির হরতাল, মিছিল, মিটিং সহ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রধান ভূমিকায় ছিল রাজিবুজ্জামান। এরপর ২০১৫ সালের ১৪ মে পরিচয় গোপন করে স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটি থেকে পদত্যাগ না করেই রাজিবুজ্জামান সু- কৌশলে ধুনট উপজেলা যুবলীগের কমিটিতে সদস্য হিসেবে অনুপ্রবেশ করে। এদিকে যুবলীগে অনুপ্রবেশ করেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে রাজিবুজ্জামান। তার বিরুদ্ধে যুবলীগের নাম ভাঙ্গিনে চাঁদাবাজি, জমিদখল ও অর্থ আত্মসাত সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয় ২০২০ সালের ২ মার্চ ধুনট উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম খানের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে আহত করে অনুপ্রবেশকারী যুবলীগ নেতা রাজিবুজ্জামান রাজিব।

এঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতা শরিফুল ইসলাম খান বাদী হয়ে রাজিবুজ্জামানের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলাও দায়ের করেন। এপর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ধুনট থানায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। তন্মধ্যে দুই মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকলেও অপর আরেকটি মামলার জামিন না নিয়েই দলীয় পরিচয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে রাজিবুজ্জামান রাজিব। এদিকে সম্প্রতি রাজিবুজ্জামানের যুবলীগে অনুপ্রবেশের বিষয়টি জানাজানি হলে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

একারনে গত সোমবার (১৩জুলাই) রাজিবুজ্জমান রাজিব ও তার বাহিনী নিয়ে ধুনট পৌর স্বেচ্ছাসেবক সভাপতি মিনজাহ উদ্দিন মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক কেএম শাহিদুর রহমান সম্রাটের বাড়িয়ে গিয়েভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিয়ে ভুয়া কমিটি তৈরী করে তার ফেসবুক আইডিতে পোষ্ট করে। এবিষয়টি নিয়ে
তোলপাড় শুরু হলে গত মঙ্গলবার (১৪জুলাই) ধুনট পৌর স্বেচ্ছাসেবক সভাপতি মিনজাহ উদ্দিন মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক কেএম শাহিদুর রহমান সম্রাট  ওই অনুপ্রবেশকারী যুবলীগ নেতা রাজিবুজ্জমানের বিরুদ্ধে ধুনট মডেল প্রেসক্লাবে লিখিত সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মিনহাজ উদ্দিন মিঠু ও শাহিদুর রহমান সম্রাট বলেন, রাজিবুজ্জামান রাজিব ধুনট পৌর স্বেচ্ছাসেবকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেই যুবলীগের প্রবেশ করেছে। একারনে সে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধুনট পৌর স্বেচ্ছাসেবকদলের ভুয়া কমিটি তৈরী করে আমাদের থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়েছে। আমরা এঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। ধুনট উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি টিআইএম নূরুন্নবী তারিক বলেন, রাজিবুজ্জামান কিভাবে স্বেচ্ছাসেবকদল থেকে যুবলীগে অনুপ্রবেশ করেছে তা জানা নেই।

তবে তার বেপরোয়া কর্মকান্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। ধুনট উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ভিপি শেখ মতিউর রহমান জানান, পরিচয় গোপন করে রাজিবুজ্জামান রাজিব যুবলীগে অনুপ্রবেশ করে বিভিন্ন সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। একারনে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের অবগত করা হয়েছে। তবে এবিষয়ে রাজিবুজ্জামান বলেন, ধুনট পৌর স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটিতে যে রাজিবুজ্জামানের নাম রয়েছে তার বাড়ি মাটিকোড়া এলাকায়। তাই আমি স্বেচ্ছাসেবকদলের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।

আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়পতিপন্য করতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বগুড়া জেলা যুবলীগের সভাপতি শুভাশীষ পোদ্দার লিটন বলেন, রাজিবুজ্জামানের বিরুদ্ধে সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের মৌখিক অভিযোগ শুনেছি। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে পরামর্শ করে তার বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, রাজিবুজ্জামান রাজিবের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি রয়েছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। #