শ্রীমঙ্গলে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বন বিভাগের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ

এম এ কাদির চৌধুরী ফারহান:

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের রেল লাইনের পাশ থেকে গাছ কেটে নেবার অভিযোগ এক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ‍্যানের কয়েকটি গাছ বন বিভাগকে না জানিয়ে কেটে নিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের শ্রীমঙ্গল ডিভিশনের সিনিয়র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম।

জানা গেছে, গতকাল সকাল থেকে রেলওয়ের শ্রমিকরা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতর ঢাকা- সিলেটজ রেললাইন রক্ষনাবেক্ষনের কাজ করছিলেন, এক পর্যায়ে রেললাইনের পাশে থেকে দুটি বনাট ও চিকরাশি গাছ কেটে নেয় এখানে কর্মরত শ্রমিকরা। রেলওয়ের সিনিয়র উপ-সহকারী প্রকৌশলীর নির্দেশেই গাছগুলো কেটে নেয়া হয়েছে বলে জানায় রেলওয়ে শ্রমিকরা। পরে কর্তনকৃত গাছগুলো একটি মালবাহী ট্রেলার দিয়ে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে কিছু গাছ ও গাছের গুড়ি শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনের পাশের একটি স-মিলে নিয়ে রাখা হয়।
খবর পেয়ে মৌলভীবাজারের বন্য প্রাণি ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার মোনায়েম হোসেন ও লাউয়াছড়ার বিট কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশন ও পার্শ্ববর্তী স মিলে অভিযান পরিচালনা করে গাছ এবং গাছের গুড়ি এবং ৫০ ফুট কাঠ উদ্ধার করে জব্দ করেন।
জানতে চাইলে মৌলভীবাজারের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার মোনায়েম হোসেন বলেন, রেলওয়ের নিরাপত্তার কাজের নাম করে রেলওয়ের সিনিয়র উপ সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম লাউয়াছড়া থেকে আমাদের না জানিয়ে গাছ চুরি করে নিয়ে এসেছেন। আমরা খবর পেয়ে গাছ উদ্ধার করেছি,আজকে আমরা আবার শ্রীমঙ্গল থানার সহযোগীতায় উনার বাসভবনের সামনে অভিযান পরিচালনা করে আরো গাছ উদ্ধার করেছি। আমরা সব গাছ উদ্ধার করে পরিমাপ করে তারপর এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলা করবো।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রেলওয়ের সিনিয়র উপ সহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের লোক গতকালকে ওইখানে একটা গাড়ী কাজ করেছে রেল লাইন ঠিক করার জন্য, সেখান থেকে কাজ করে ফিরে আসার সময় আমাদের কিছু লোক রেললাইনের পাশে আমরা যে গাছগুলো কেটে রাখি লাইন রক্ষনাবেক্ষনের সময় সেগুলো স্টেশনে নিয়ে এসেছে। আমি গতকাল সেখানে ছিলাম না,আমি উচ্ছেদ অভিযানে ছিলাম সিলেটে। আমাদের সুপারবাইজাররা সেখানে কাজ করেছে, লাউয়াছড়ার বিট অফিসার আমাকে ফোন করেছিলেন আমি বলেছি যদি আমার লোক গাছ কেটে থাকে তবে জিআরপি থানা অথবা আমার সীমানার সামনে থাকবে। পরে বনবিভাগ এসে গাছ উদ্ধার করে নিয়ে গেছে।
তার বিরুদ্ধে গাছ চুরির অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরুল বলেন, এগুলো জংলী গাছ এই গাছ দিয়ে আমি কি করব ? আমার স্টাফেরা গাছগুলো কেটেছে কিন্তু এখন কেউ স্বীকার করছে না। তবে এই গাছচুরির বিষয়ে নিজের দায়িত্ব তিনি এড়াতে পারেন না বলেও যোগ করেন তিনি।