শেফ ইউনিটি এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ- এর ১২ দফা দাবি আদায়ে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি:: করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সারাদেশে প্রায় ৬০ হাজার রেস্তোরাঁয় কর্মরত ২০ লক্ষাধিক শ্রমিকের মতই শেফরা গত মার্চ মাস থেকে সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর মুনাফা করলেও নামমাত্র দুই একটি ব্যতিক্রম ছাড়া হোটেল-রেস্তোরা শিল্পের মালিকরা এই দুঃসময়ে শ্রমিকদের পাশে দাড়াননি। আবার সামাজিক মর্যাদাবোধের কারণে তারা সাহায্যের জন্যও হাত পাততেও পারছেন না। যারা সারাজীবন মানুষকে রান্না করে খাওয়াছে আজ তারাই এখন না খেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

রবিবার (৬ জুলাই) সকাল ১১ টায় রাজধানীর মিরপুর প্রেসক্লাবের হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন, শেফ ইউনিটি এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ- এর নেতৃবৃন্দ।

এসময় লিখিত বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, মানুষের জীবনের পাঁচটি মৌলিক চাহিদার প্রথমটি খাদ্য। আমরা শেফরাই সেই খাদ্য রান্না করে দেই অথচ আজ আমরাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত।  ইউরোপে শেফদের সেকেন্ড গড বলা হয়। একজন শেফ মারা গেলে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। কিন্তু আমরা কেনো এতো অবহেলিত তা আমাদের কারোই বোধগম্য নয়।

এসময় নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ১ জুন থেকে সরকার হোটেল-রেস্তোরা বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা জারী করলেও করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রিত না হওয়ায় এবং সন্ধ্যায় রেস্তোরাঁ খোলা না থাকায় ক্রেতা উপস্থিতি খুবই কম হয়। ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ মালিকগণ শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের দায়িত্ব এড়ানোর জন্য এবং লোকসানের সম্ভাবনায় হোটেল, রেস্তোরাঁ চালু করছেন না।

এসময় নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, করোনা সংক্রমণের শুরুতে সরকার প্রধান অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের জন্য নগদ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও অদ্যবধি হোটেল রেস্তোরাঁ শ্রমিকরা কোনো সরকারি সহায়তা পায়নি। প্রায় ৪ মাস যাবৎ হোটেল, রেস্তোরাঁ শ্রমিকরা উপার্জনহীন হয়ে পড়ায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে। শ্রম আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় হোটেল-রেস্তোরা শ্রমিকদের আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগও নেই।

সংবাদ সম্মেলনে শেফ ইউনিটি এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে করোনাকালে হোটেল, রেস্টুরেন্ট শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরী, করোনাকালে ছাঁটাই বন্ধ, নিয়োগপত্র প্রদান, রেশনের ব্যবস্থা, করোনায় আক্রান্ত হোটেল, রেস্টুরেন্ট শ্রমিকদের দায়িত্ব মালিক ও সরকারকে নেওয়া, পূর্ণরূপে হোটেল, রেস্টুরেন্ট খুলে না দেওয়া পর্যন্ত মাসিক ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান, করোনায় মৃত্যু শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, হোটেল, রেস্টুরেন্ট শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরী নির্ধারণে মজুরী বোর্ড গঠন, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যবীমা ও চিকিৎসা, কর্ম  ঘন্টা ও ওভারটাইমসহ শ্রম আইন নিশ্চিত করা, সংগঠন করার অধিকার, হোটেল, রেস্টুরেন্ট সেক্টরকে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রনালয় হতে আলাদা করে শিল্প মন্ত্রনালয়ের অন্তভূক্ত করাসহ ১২ দফা দাবী যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্য তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শেফ ইউনিটি এসোসিয়েশনের অফ বাংলাদেশ- এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি শেফ আহসান হাবীব-এর সভাপতিত্বে ১২ দফা দাবী আদায়ের জন্য বক্তব্য রাখেন, উপদেষ্টা- শেফ আসফাক আহমেদ এবং জালাল আহমেদ, সহ-সভাপতি- সুমন খান, সহ-সভাপতি- শেফ নোমান, সাধারণ সম্পাদক- মুরাত দেওয়ান, সহ-সাধারণ সম্পাদক- রবিউল আউয়াল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক- সম্পাদক- জসিম উদ্দিন ও মহিলা বিষয়ক- সম্পাদিকা ফাতেমা আক্তার রিতা প্রমূখ।

### এস এস সবুজ