লাইসেন্স জালিয়াতির প্রকাশের পরে মালয়েশিয়ায় চাকরি হারাচ্ছেন পাকিস্তানি বিমান চালকরা

ডেস্ক রিপোর্ট :: পাকিস্তানি পাইলটদের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জাল সনদধারী, এমন খবর চাউর হয়ে গেছে বিশ্বব্যাপী। ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো পাকিস্তানি বিমানকে ইউরোপের আকাশে নিষিদ্ধ করেছে। এবার পাকিস্তানি যেসব পাইলটকে অভ্যন্তরীণ রুটে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তাদের অস্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে মালয়েশিয়া। এই পাইলটদের অনেকের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ করার মতো তথ্য তাদের হাতে এসে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিমান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ (সিএএএম) বলেছে, মালয়েশিয়ার সব বিদেশি পাইলটের যোগ্যতা মূল্যায়নের পরেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর মালয় মেইলের।

পাকিস্তানি পাইলটরা যোগ্যতা নিয়ে করা জালিয়াতি ধরা পড়ায় এক-তৃতীয়াংশ পাইলটকে বিমান নিয়ে আকাশে উড়তে নিষেধ করে দিয়েছে খোদ পাকিস্তানই। দেশটিতে ৮৬০ পাইলটের মধ্যে ১০৭ জন বিদেশি এয়ারলাইনসে কাজ করেন।

মালয়েশিয়ার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলেছে, ২০ জনের মতো পাকিস্তানি পাইলট আছে মালয়েশিয়ার। দেশটির এমন সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তানি বিমান চালকদের নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের যোগ্যতার সত্যাসত্য নির্ধারণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানের জাতীয় বিমানকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি’র (ইএএসএ) দেওয়া এক চিঠিতে বিমান চালকদের লাইসেন্সের কার্যকারিতা সম্পর্কে উদ্বেগের কথা জানায়। তাদের কথা হলো, পাকিস্তান নিজেই এখন এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী তাদের বিমান চলাচলের ব্যাপারে কোন রকম নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।

এদিকে মিশর ও আবুধাবিতেও পাকিস্তানের পাইলটদের লাইসেন্স পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার দৈনিকটি। গত সপ্তাহের শুরুতে ভিয়েতনামও পাকিস্তানি বিমানচালকদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

পাকিস্তানের বিমানমন্ত্রী গুলাম সারোয়ার খান সংসদে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সে ৪০ শতাংশ পাইলটের ভুয়া লাইসেন্সের বিষয়টি প্রকাশের পর বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) লাইসেন্সের বিষয়ে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

### এস এস সবুজ