শরনখোলায় সাউথখালী ইউনিয়নের বর্ষা মৌসুম এলেই চরম দুর্ভোগের পড়তে হচ্ছে প্রায় ৪০হাজার মানুষকে

শরনখোলা প্রতিনিধিঃ বর্ষা মৌসুম এলেই চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের প্রায় ৪০হাজার মানুষকে। দেশের সর্ব-দক্ষিনে অবস্থিত এ উপজেলাটি ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। যার আনুমানিক জনসংখ্যা ২লাখ। উপজেলার ধানসাগর, খোন্তাকাটা ও রায়েন্দা ইউনিয়নের যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল হলেও দীর্ঘদিন ধরে সাউথখালীর ৯টি ওয়ার্ডের রাস্তাগুলোর তেমন কোন সংস্কার না হওয়ায় ইউনিয়নটির যাতায়াত ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে। যার ফলে প্রসাশনিক এবং স্বাস্থ্যসেবা সহ নানা সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ওই ইউনিয়নের বাসিন্দারা। বর্ষামৌসুমে উপজেলা সদর থেকে ওই ইউনিয়ন বাসীকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে হয়। তবে, উন্নয়নমুখী সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নটি চরম অবহেলিত থাকায় সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের ভুমিকায় স্থানীয় জনসাধারন মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
খেঁাজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৩৫কিলোমিটারের আয়তনের ওই ইউনিয়নটির ১নং সোনাতলা, ৩নং দক্ষিন তাফালবাড়ী, ৮নং চালিতাবুনিয়া, ৫নং উত্তর-সাউথখালী, ৯নং খুড়িয়াখালী, ৬নং দক্ষিন-সাউথখালী এবং ৭নং বগী ওয়ার্ডের জনগুরুত্বপূর্ন একাধিক ব্রীজ, কালভার্ট সহ ১৪/১৫টি সড়ক নুতন করে সংস্কার না হওয়ায় জনসাধারনের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। প্রতি বছরের বরাদ্ধকৃত এডিপি, টি.আর, কাবিখা ও কাবিটা সহ উন্নয়ন তহবিলের সরকারি বরাদ্দ নয়-ছয় হওয়া সহ জন প্রতিনিধিদের আন্তরিকতার অভাবে সাউথখালীর যোগাযোগ ব্যবস্থা বহু বছর ধরে ভঙ্গুড় অবস্থায় পড়ে আছে। ওই ইউনিয়নটির যোগাযোগ নিয়ে আলাপ হলে, খুড়িয়াখালী এলাকার বাসিন্দা মোঃ রাসেল মুন্সি, মোফাজ্জেল হাওলাদার, হালিম হাওলাদার, ফয়সাল বয়াতী সহ স্থানীয় বিভিন্ন ওয়ার্ডের কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ইউনিয়নটির মতো শরণখোলায় আর কোন রাস্তা-ঘাট আছে বলে আমাদের মনে হয় না। আমাদের এ দুর্ভোগ জন প্রতিনিধিদের চোখে পড়ে না। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও উপজেলা সদরে যাতায়াতের সময় হঁাটু সমান কাঁদা ভেঙ্গে নারী-পুরুষ, শিশু ও অসুস্থ্য রোগী নিয়ে চলাচলে এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ২০বছর আগের মতো এখনো যদি হঁাটু সমান কঁাদা ভেঙ্গে চলাচল করতে হয়। সরকারের কাছে আমরা এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।
এব্যাপারে, ৯নং খুরিয়াখালী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ বাচ্চু মুন্সি সহ সাউথখালী ইউনিয়নের কয়েকজন ইউপি সদস্য বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাটের আবস্থা খারপ। বছরের প্রায় ৬মাস ইউনিয়নটি জুড়ে এমন অবস্থা থাকায় এখানকার ছাত্র-ছাত্রী সহ এলাকাবাসী দুর্ভোগের মধ্যে আছে।
অপরদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, বগী এলাকার এক সমাজ সেবক বলেন, হঁাটু পরিমান কঁাদা ভেঙ্গে চলাচলের এমন দৃশ্য এখন আর কোথাও দেখা যায় না। সরকারের উন্নয়নের ছেঁায়ায় প্রত্যন্ত গ্রামেও সাধারণত ইট দিয়ে হলেও রাস্তা পঁাকাকরণ করা হয়। এডিপি, এলজিএসপি, টিআর-কাবিখাসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন তহবিল থেকে জনকল্যাণমূূলক কাজ গুলো করার কথা। কিন্তু এই ইউনিয়নের অবস্থা দেখে মনে হয় যেন সরকারের উন্নয়নের কোন ছেঁায়া লাগেনি এই জনপদে। তাহলে সরকারি অর্থ যায় কোথায়? এছাড়া বিগত দিনে বাগেরহাট-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের সাথে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোজাম্মেল হোসেনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাউথখালী ইউনিয়নটি পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারন।
তবে, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্বা মোঃ মোজাম্মেল হোসেন, সাধারন মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, উন্নয়ন মুলক কর্মকান্ডের যে কোন প্রকল্প পাশ করাতে গেলে তা তদবির ছাড়া হয় না। তবে, বিভিন্ন ওয়ার্ড়ের একাধিক রাস্তা-ঘাট সহ আমার ইউনিয়নের গুরুত্বপুর্ন স্থাপনা নির্মানের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের পাশাপাশি অনেক দপ্তরে ইতিমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গত কয়েক বছরে যে টুকু সরকারি বরাদ্ধ পেয়েছি তা সমহারে প্রত্যেক ওয়ার্ড়ে বন্টণ করে দিয়েছি। এছাড়া রাজনৈতিক দুরত্বের বিষয়টি সঠিক নয়।
এব্যাপারে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, ওই ইউনিয়নটির জনসাধারনের দুর্ভোগ পর্যায়ক্রমে লাঘবের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায় কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।