চলে গেলেন না ফেরার দেশে সিলেট আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ মঞ্জু মিয়া

সোহেল রানা,সিলেট থেকে : দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়ে সিলেট আওয়ামী লীগের পরিচিত মুখ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী মঞ্জু মিয়া অবশেষে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। শনিবার (৬ জুন) সকাল পৌনে নয়টার দিকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন।

মঞ্জু মিয়া গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শরীরে নিউমোনিয়া নিয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। মঞ্জু মিয়ার স্ত্রী সিলেটভিউকে জানান,গত এক সপ্তাহ ধরে মঞ্জু মিয়া খুব অসুস্থ। গত বৃহস্পতিবার মঞ্জু মিয়াকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাঁর নিউমোনিয়া হয়েছে বলে জানান। সেখানেই দুইদিন শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়ে সকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মঞ্জু মিয়া। উলে­খ্য,সিলেটের সর্বস্তরের মানুষের কাছে মঞ্জু মিয়া মাইক মঞ্জু’ নামে পরিচিত ছিলেন।

তাঁর প্রাণের সংগঠন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী,বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাসহ সকল কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও মঞ্জু মিয়ার বেশ পরিচিতি ছিলো। সুদীর্ঘ সময় ধরে সিলেট আওয়ামী লীগের যেকোনো কর্মস‚চিতে মাইক হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন মঞ্জু। এই মাইকিংয়ের বিনিময়ে কখনো পারিশ্রমিক পেয়েছেন- কখনো পাননি। তবুও দলের কাজে পিছপা হননি। ২০১৪ সালের শেষে দলীয় কর্মস‚চির মাইকিংয়ের সময় ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তিনি।

সে যাত্রায় বেঁচে গেলেও বাম হাত আর পা অবশ হয়ে মঞ্জুর জীবনে কঠিন সংগ্রাম শুরু হয়। এরপর সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী তাকে একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে দেন। সেই হুইল চেয়ারে চড়েই প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতেন। কিন্তু সময়ের সাথে সেই শক্তিটুকুও একসময় হারিয়ে ফেলেন মঞ্জু।

২০২০সালের মার্চ মাসে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে মঞ্জু মিয়াকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মান পেয়ে খুশি হয়েছিলেন মঞ্জু, নতুন আশা জেগেছিলো প্রাণে। কিন্তু সুস্থতা আর সঙ্গী হয়নি তাঁর। অবশেষে অসুস্থতার কাছে পরাজিত হয়ে আজ চলেই গেলেন না ফেরার দেশে।