বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধিঃ লটারির মাধ্যমে কক্ষ পর্যবেক্ষক নির্ধারণ, পরীক্ষা পরিচালনা কমিটিতে স্ব স্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষক না রাখা,পরীক্ষার কেন্দ্রে বহিরাগত শিক্ষক ঢুকতে না দেওয়া, কেন্দ্র সমূহ কঠোর মনিটরিং এ রাখাসহ নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করায় এ বছর ভোলার  বোরহানউদ্দিনে শতভাগ নকলমুক্ত পরিবেশে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমন অভিমত শিক্ষক- শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সহ সংশ্লিষ্টদের । তবে শতভাগ নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষার অনুষ্ঠানের জন্য তারা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাধুবাদ জানান। স্বচ্ছ পরিবেশে পরীক্ষা হওয়ার  কারণে পাসের হার বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার অনেকটাই নিন্মগামী।তবে  উপজেলার স্কুলগুলোর গড় পাসের হার ৬০.০৩ হলেও মাদরাসার পাসের হার  ৪৫.৬। আরও একাধিক প্রতিষ্ঠানের ফলাফলের চিত্র একই রকম।
বোরহানউদ্দিন আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জানান,এবার প্রকাশিত ফলাফলে বোরহানউদ্দিন আলিয়া মাদরাসা কেন্দ্রের পাসের হার ৪৯ আর ভৈরবগঞ্জ মাদরাসা কেন্দ্রের পাসের হার ৪২। তবে প্রাপ্ত ফলাফলে বোরহানউদ্দিন আলিয়া মাদরাসার পাসের হার ৬৯.৯৩ হলেও কয়েকটি মাদরাসার ফলাফল হতাশাজনক।যাদের মধ্যে ভৈরবগঞ্জ ফাজিল মাদরাসার পাসের হার ২২.২২, হাসাননগর সিরাজিয়ার ৩৩.৩৩, হাসাননগর রহমানিয়ার৪৫.২৪, দালালপুর ইসলামিয়ার ৩৩.৩০, কুঞ্জের হাট মাদরাসার ৩৪.৭০, কাচিয়া ইসলামিয়ার ৪৮.৩৭,এসজে পাড়া মহিলা মাদরাসার ৪৩.৮৩,উদয়পুর রাস্তার মাথা মাদরাসার পাসের হার ৪৮.৭২। অন্যদিকে গোলাম রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাসের হার ২০.দক্ষিণ ফুল কাচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের  পাসের হার ৪৮.১৬ ৷
জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী তাছনিম মাহমুদা নিহা,অন্তু দাস,রিয়া মনি,মুহান্না তাসনিম নুহা জানান, এবছর অত্যন্ত সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৷ এবং পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কাঙ্ক্ষিত ফলাফলে তারা খুশি।
অভিভাবক ফারহানা শারমিন, নুরনাহার,সাহেরা বেগম,লিটন চন্দ্র দাস বলেন,এ বছর আমাদের সন্তানরা নিরপেক্ষ পরিস্থিতিতে, শতভাগ নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষার দিতে পেয়েছে।হলে কোন রকম প্রভাব ছিলনা দাবী করে,সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষার অনুষ্ঠানের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।
বোরহানউদ্দিন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ মোহাম্মদ নোমান,কুলসুম রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফখরুল আলম,ডিটিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মন্নান কাজী,দেউলা রজ্জব আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস, সিনিয়র শিক্ষক শিশির কুমার দে,বিশ্বজিৎ দে,নিত্য গোপাল দে,বাহার উদ্দিন  জানান,চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরীক্ষা পদ্ধতিতে টেকনিক্যাল কৌশল গ্রহণ করেন।যার কারণে শতভাগ নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষার অনুষ্ঠিত হয়েছে।যদিও ফলাফল বিগত বছরগুলোর চেয়ে খারাপ তথাপি বলবো,এটাই প্রকৃত রেজাল্ট। তারা বলেন,এখন থেকে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান ও টেবিলমুখী হবে।শিক্ষকরা তাদের সন্মান ফিরে পাবেন।নির্বাহী কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা এ ধাবা অব্যাহত রাখার আহবান জানান।
বোরহানউদ্দিন কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আহমেদ উল্যাহ আনছারী বলেন,এ বছর ব্যতিক্রমধর্মী ও নকল মুক্ত পরিবেশ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।এবার সঠিক মেধার যাচাই হয়েছে।শিক্ষার গুনগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাহী কর্মকর্তার এ ব্যতিক্রম ও কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানান।সমগ্র জেলায় এ ধারা অব্যাহত রাখার আহবান জানান।
বোরহানউদ্দিন শাহবাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বিকেএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন,বোরহানউদ্দিনের ইতহাসে আর কখনো এই রকম নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়নি।অনিয়মের সকল পথ রুদ্ধ করে সুন্দর পরীক্ষার নেওয়ার জন্য তিনি নির্বাহী কর্মকর্তা কে সাধুবাদ জানান।
বোরহানউদ্দিন মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ সোহেল হেসেন জানান,অত্যন্ত সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।এ ধারা অব্যাহত রাখার তিনি দাবী জানান।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তপন কুমার বিশ্বাস বলেন,এ বছর শতভাগ নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষার হয়েছে।এ পরিবেশ অভ্যস্থ হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।তবে কৃতিত্ব নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বশির গাজীর এমন দাবী তার।বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বশির গাজী বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে  মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে কাজ করে যাচ্ছেন।জাতি গঠনে  সবার আগে প্রয়োজন দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টি।তিনি বলেন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে মতবিনিময় করে এ সমস্যা থেকে উত্তরণ ও করনীয় বিষয় নির্ধারণ করা হবে।খারাপ ফলাফলকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।