আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়ন ও গোপালপুর ইউনিয়নকে মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) সকাল ১০টায় বাজড়া-চরডাঙ্গা সড়কের চর আজমপুর এলাকায় মধুমতি নদীতীরে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার তরুণ সমাজসেবক সিকদার লিটনের সার্বিক সহযোগিতায় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।
এসময় তারা বলেন, চোখের সামনে বাপ-দাদার পৈত্রিক ভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে যা মেনে নেওয়া কত কষ্টের একমাত্র ভুক্তভোগী হিসেবে আমরাই জানি। তারা বলেন, নদীর পানি বাড়তে শুরু করার সাথে সাথে ভাঙন শুরু হয়ে গেছে। গতবছর আমাদের শত শত বসতবাড়ি এবং হাজার হাজার একর ফসলি জমি মধুমতি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন অবশিষ্ট যা রয়েছে এবার তাও ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে। এরই মাঝে আমাদের একমাত্র যাওয়া আসার বাজড়া-চরডাঙ্গা পাঁকা সড়কটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন রাতে ভয়ে থাকি এই বুঝি আমাদের ঘর নদীগর্ভে চলে যাবে।
মানববন্ধনে তারা অতিদ্রুত ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রধান মন্ত্রীর নিকট নদীতীর সংরক্ষণের জন্য স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণের দাবী জানান। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে নতুন করে মধুমতি নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের বাজরা, চর আজমপুর, চরডাঙ্গা, চাপুলিয়া, চরধানাইড়, শিকিপাড়া, চাপুলিয়াসহ প্রায় ১০টি গ্রাম এখন হুমকির মুখে পড়েছে। এরই মাঝে ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষের যাওয়া আসার একমাত্র পাকা সড়কটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। একই সাথে নদীগর্ভে চলে গেছে গুচ্ছগ্রামের ১২৫টি বাড়ি, বাজরা পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদসহ নানা স্থাপনা। এখন চরম হুমকির মুখে রয়েছে বাজরা চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালসহ কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ি। গত বছরও এই এলাকার কয়েকশত বাড়ি ঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। বিলীন হয়েছে হাজারো একর ফসলি জমি।