Home » বিনোদন » কুঁড়েঘর ব্যান্ডের আজিজুল হক এখন বাংলাদেশের অন্যতম সম্পদ
কুঁড়েঘর ব্যান্ডের আজিজুল হক এখন বাংলাদেশের অন্যতম সম্পদ

কুঁড়েঘর ব্যান্ডের আজিজুল হক এখন বাংলাদেশের অন্যতম সম্পদ

নাসিম আহমেদ রিয়াদঃ পুরো নাম আজিজুল হক হৃদয়। ময়মনসিংহ জেলার অধীনস্থ পাহাড়ের পাদদেশে ধোবাউড়া উপজেলার কৃষ্ণপুরে একটি নিম্নবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম।মা-বাবাসহ তিন ভাই এক বোন, তিনি পরিবারের বড় ছেলে। তাঁর জীবনবৃত্তান্ত পুরো পত্রিকা জুড়ে লিখলেও শেষ হবেনা। মাত্র কয়েক বছরের পথ চলায় প্রায় শতাধিক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। নানা ধরনের সার্টিফিকেট, মেডেল, এমনকি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন।পূর্বে তিনি একজন দূর্দান্ত এ্যাথলেটার ছিলেন, জাতীয় পর্যায়ে পুরষ্কারও অর্জন করেন তিনি।

বর্তমানে তিনি কুঁড়েঘর ব্যান্ডের গীতিকার ও সুরকার। এ ছাড়া নতুন আরেকটি ব্যান্ড এর প্রতিষ্ঠাতা তিনি নাম গানচক্র ব্যান্ড। এ ছাড়াও তিনি “রংধনুর সাত রং”(রসার) ম্যাগাজিন পত্রের সম্পাদক তিনি একাধারে খেলোয়ার, সম্পাদক, গীতিকার, সুরকার, নৃত্যশিল্পী, অভিনেতা ও সুদক্ষ ভিডিও নির্মাতা। জনপ্রিয় এই কুঁড়েঘর ব্যান্ডের গীতিকার ও সুরকার একান্ত আলাপচারিতার অংশ দৈনিক প্রতিদিনের চিত্রের সঙ্গে।
আজিজুল হকের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক গণমানুষের আওয়াাজ পত্রিকার প্রতিবেদক নাসিম আহমেদ রিয়াদ।

* কি করে কাটতো আপনার ছোট্টবেলার সময়?

আজিজুল হক: আমি ছোট কাল থেকেই সাহসী ও ডানপিটে ছিলাম। ছোট বেলাতেই আমার একটা দল ছিলো, নাম ছিলো শয়তানের দল, লিডার ছিলাম আমি। বিভিন্ন ধরনের গাছের ফলফলান্তি ও পুকুরের মাছ চুরি করে অদূরে বিলের খেতে বসে নির্জনে খাওয়াই ছিলো আমাদের এ দলের কাজ। পাঁচ পয়সা-দশ পয়সা আর আটানা করে মাটির ব্যাংকে জমাতাম বড় হয়ে সাইকেল কিনবো বলে। BCR, CD, Tv, খেলাধূলা করতাম প্রচুর, নানা ব্যাতিত, পরিবারের কোন শাসন মানতাম না, মন যা চাইতো তাই করতাম, অন্য কারো কথা শুনতাম না, এলাকায় জারি, সারি, গেটু গান আসলে অংশগ্রহণ করতাম।অকেক কিচ্ছা, কাহিনী শুনতাম, নিজেও বানিয়ে বানিয়ে শুনাতাম। বাড়ীতে হাজারটা বিচার আসতো, ছোটকালেই কেবল নানার ভয়ে ঘর ছেড়ে কত শত রাত বাহিরে কাটিয়েছি। শৈশবেই এক সুন্দরী মেয়ের প্রেমে পড়েছিলাম…

* আপনার জীবন কাহিনী তো কয়েক পত্রিকাতে লিখে শেষ করা যাবেনা, যতই শুনছি ততই অবাক হচ্ছি, এ যেন এক মহা কাব্য..! আপনার স্বপ্ন কি ছিলো?

আজিজুল হক: এ্যাথলেটিক্সে অলেম্পিকে যাবো, বিশ্বেের সেরাদের সেরা হবো, স্বর্ণ জিতার স্বপ্ন ছিলো, কিন্তু ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে, একটি আঙ্গুলে রট ভর্তে হয় সেই থেকে খেলাধূলা চিরতরে শেষ।

* মাত্র ৪ বছরে ১৪৯ টি দেশ এখন কুঁড়েঘরের গান শুনে, আপনার লিখা গানগুলো দেশ-বিদেশের মানুষের মুখে মুখে, আমি নিজেও আপনার লিখার একজন ভক্ত। এই গানের সাথে কিভাবে যুক্ত হলেন? আপনার অনুপ্রেরণার মূল কারণ কাকে বা কি বলে মনে করেন?

আজিজুল হক: আমি হাই স্কুল লাইফ স্কুলের বডিং থেকে শেষ করেছি, সেই সাথে তখন পরিবারের হাল ধরতে গিয়ে, রিক্সা, টেম্পু, সি.এন.জি, প্রাইভেটকার, ট্রিলার মেশিন চালিয়েছি। শারিরীক ও কায়িক শ্রমে তিলে তিলে গড়ে উঠলাম আমি, আমার সুখ- দু:খ-কষ্ট সবি কবিতার ছন্দে ছন্দে ডায়রি বদ্ধ করি। রাত জেগে বই পড়ার নেশা জাগে, জাগে নতুন নতুন তত্ত্ব খোঁজার, লিখতে থাকি গল্প উপন্যাস,কবিতা ও গানের বই। একটি সাইকেল বিক্রি করে এই শহরে আসা মরহুম শিল্পী বারী সিদ্দীক কাকার পরামর্শে “রামপুরা গীতিকাব্য চর্চা কেন্দ্র”থেকে গান লিখার শুদ্ধ কলা কৌশলের জ্ঞান অর্জন করি, এর পর কলকাতার আশিস দা, ও আহমদ কাকার কাছে আধ্যাত্ত্যিক কিছু তাত্ত্বিক জ্ঞান লাভ করি। আবার বাড়ী ফিরে
কৃষ্ণপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে, মাধ্যামিক, ধোবাউড়া আদর্শ ডিগ্রী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, নেত্রকোণা সরকারী কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স, পড়তে এসে শেষের দিকে, শিল্পী জিসান খান শুভর সাথে পরিচয়। একদিন তাসরিফ খান কে(বর্তমান মূল শিল্পী কুঁড়েঘর) দেখলাম কলেজের পুকুর পারে গানের আসর বানিয়ে বসে আছে, শুভকে দিয়েই তাসরিফের সাথে পরিচয়। আমার গানের কথা তাদের অনেক ভালো লেগেছে, এভাবেই গানের দলের সাথে যুক্ত, নাম: kureghor band…
আমার অনুপ্রেরণা আমারি বাস্তব জীবন থেকে,,যেখানে এক তীব্র ইচ্ছা শক্তির বসবাস।

* আপনি এ পর্যন্ত কয়টি গান বা গল্প-উপন্যাস লিখেছেন?এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় কোন গান?

আজিজুল হক: ১০০০/১২শ গান হবে, প্রকাশ পেল প্রায় ৪০ টি, সবচেয়ে জনপ্রিয় গান: যদি ভালোবাসিস আমারে তুই ময়না রে..”গল্প লিখা আছে ৩৫টি, কাব্য ২টি ১টি সনেট কাব্য, প্রবন্ধ ৭টি, ভ্রমণ কাহিনী ১টি, উপন্যাস ১৫ টি।

* আপনার কাছে না আসলে এত কিছু জানতে পারতাম না, সত্যি এই অপ্রকাশিত বই গুলো দেশের সম্পদ এবং বাংলা সাহিত্যের পরিধি বৃদ্ধির নতুন মাত্রা যোগ।
স্যার,বর্তমানে আপনার ব্যাস্ততা কি নিয়ে?

আজিজুল হক: আমি কেবল ঘুম ব্যাতিত পুরো সময়টাই নিজেকে ব্যাস্ততায় জড়িয়ে ফেলেছি, আমি আমি kureghor band এর বাহিরের অনেক কাজ করে থাকি।ইমন খান,কাজী শুভ, সৈয়দ অমি, রিজন খান, আকরাম, হিমেল, মিমসহ নতুন পুরাতন শিল্পীদের সাথে মিলেমিশে বেশ কিছু কাজ হয়েছে।
বর্তমানে, তাসরিফের ৪ টি গান, কাজী শুভর আরো ২টি, ফজলুর রহমান বাবুর ১ টি, সৈয়দ অমির ১টি, দূরন্তর ৩টি, সুজনের ২টি আকরামের ১টি, সালামের ১টি, প্রমিত ১টি ও আমার নিজের কন্ঠে ১টি।মোঠ ১৭ টি গানের কাজ নিজেই ব্যাস্ত একটি একটি করে ভক্তদের হাতে তুলে দিবো কষ্ঠের ফসলগুলো। আশা করি ভক্তরা নিরাশ হবেনা।

* তাহলে অনেক গুলো গান আমরা পেতে যাচ্ছি। শেষ প্রশ্ন… আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা বা স্বপ্ন কি যদি একটু বলতেন?

আজিজুল হক: প্রয় সব মানুষই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে কিন্তু ভাগ্য চক্রে যে কোন সময় তার পরিকল্পনা কিংবা স্বপ্ন পরিবর্তন হয়। শুধু ইচ্ছা আর তীব্র চেষ্ঠা করা যায় স্বপ্নের জন্য। এতে ভাগ্য ধরা দিতেও পারে, হতে পারে স্বপ্ন পূরণ।
যায় হোক আমার কিছু স্বপ্ন আছে যেমন: কুঁড়েঘরকে বিশ্বের সেরা ব্যান্ড বানাবো, ইউনিক সিনেমা নির্মাণ করবো, আজিজুলের গাননামে একটি সংগীতের ধারা তৈরী করবো।

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes
Scroll Up
error: Content is protected !!