Home » জাতীয় » সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি প্রকল্পে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন- টাকার জন্য মাঝ পথে এসে কাজ বন্ধ হওয়ার কোন কারণ নেই
সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি প্রকল্পে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন- টাকার জন্য মাঝ পথে এসে কাজ বন্ধ হওয়ার কোন কারণ নেই

সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি প্রকল্পে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন- টাকার জন্য মাঝ পথে এসে কাজ বন্ধ হওয়ার কোন কারণ নেই

মোঃ জাকির হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিএনডির পানি নিস্কাশন ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের প্রথম পর্যায়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তায়ন করতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। টাকার জন্য মাঝ পথে এসে কাজ বন্ধ হওয়ার কোন কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের সাথে ২০ লাখ মানুষ সম্পৃক্ত। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘ সময়ের জলাবদ্ধতার হাত থেকে মানুষ রেহাই পাবে। আশা করা যাচ্ছে ২০২২ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। 

৮ মার্চ (রোববার) দুপুরে ডিএনডির উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতির কাজ পরিদর্শন ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে ডিএনডি এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের পাম্প স্থাপন অনুষ্ঠানে এসে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। এসময় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার, ডিএনডি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক কর্ণেল মাশফিকুল আলম, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, নাসিক কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান, ইফতেখার আলম খোকন, আলী হোসেন আলা, সেনাবাহিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এমসয় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, ডিএনডি প্রকল্পের কাজ শেষ করতে আরো ৭শ কোটি টাকার প্রয়োজন। আমি আশা করছি প্রধানমন্ত্রী এ টাকার অনুমোদন দেবেন। সরকারের মন্ত্রী, সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সেনাবাহিনী বেশ আন্তরিকতায় কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কাজে মনে হয় এটা তাদেরই এলাকা। তারা হাতিরঝিলের আদলেই এ কাজটি করে যাচ্ছেন। কাজটি শেষ হলে ডেমরা থেকে আমরা নৌকায় উঠবো এবং শীতলক্ষ্যায় গিয়ে নামবো। সাংবাদিকদের আমি ধন্যবাদ জানাই ,কারণ তাঁরা নোংরা পানিতে নেমে ডিএনডি নিয়ে সংবাদ করেছেন।

শামীম ওসমান আরো বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের প্রতি জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনার আলাদা একটা টান রয়েছে। আমি বলতে বলতে একপর্যায়ে তৎকালীন পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিস ভাইকে (আনিসুল হক) বলেছিলাম, আমাকে রিজাইন করতে হবে। কারণ যে এলাকার মানুষ কষ্টে থাকবে সেই এলাকাতে এমপি থাকার আমার দরকার নাই। তখন প্রধানমন্ত্রীর ইশারায় এ কাজটি শুরু হয়। তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকা থেকে আসার সময়ে গাড়িতে বসে ৬ রাকাত নফল নামাজ আদায় করেছি। মনে মনে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছিলাম যেন মন্ত্রী ও সচিব সাহেবরা ডিএনডি প্রকল্প নিয়ে কাজ করেন।’

১৯ ইসিবি’র প্রকল্প পরিচালক লেঃ কর্ণেল মাশফিকুল আলম বলেন, প্রকল্পটির সম্পাদিত কাজের সুফল পেলেও এর বেশ কিছু অন্তরায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- খালের ভেতর যত্রতত্র নোংরা আবর্জনা ফেলা, খালের সীমানা নির্ধারণ ও জরিপে জটিলতা, ৭৭ দশমিক ৭৯৭ কিঃমিঃ গ্যাস সংযোগ, ৫৮ দশমিক ৪৯ কিঃমিঃ পানির লাইন, ৮২ দশমিক ২৯৭ কিঃ মিঃ বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং ২৮ দশমিক ৯৮ কিঃ মিঃ টেলিফোন সংযোগ স্থানান্তর জটিলাত, অবৈধ দখলদার কর্তৃক খালের এলাকা পুনঃ দখল, খালের সীমানার ভেতর বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান (মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ, মন্দির, পুলিশ চেক পোষ্ট, পেট্রোল পাম্প এবং বেসরকারী স্থাপনা), জমি অধিগ্রহণ বিষয়ক দীর্ঘসূত্রিতা, অবৈধ দখলদার কর্তৃক আদালতে রিট পিটিশন-মামলা ও স্টেঅর্ডার দাখিল এবং প্রকল্পের আরডিপিপির অনুমোদন।

এদিকে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রæয়ারি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ারের সভাপতিত্বে ডিএনডি এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের ১ম সংশোধন প্রস্তাবের উপর যাচাই কমিটির সভা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় ডিএনডি প্রকল্পের বরাদ্দ ৫৫৮ কোটি ১৯ লাখ ৭৯ হাজার থেকে ১৩’শ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়। একই বৈঠকে প্রকল্পের বাস্তাবায়নকাল ২০২০ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করার জন্য একনেকে প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

ভুমি অধিগ্রহণসহ প্রকল্পটির সর্বমোট ৭৫ ভাগ কাজ সম্পান্ন হয়েছে উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালক লেঃ কর্ণেল মাশফিকুল আলম আরো বলেন, ডিএনডি প্রকল্পের পাম্পসমূহ স্থাপনের কার্যক্রম দ্রæত গতিতে এগিয়ে চলছে। আসন্ন বর্ষায় তা কার্যক্ষম করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা বলবৎ রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এই এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অতি গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর জনবহুল এলাকার জনগণের স্বাভাবিক জীবনমান নিশ্চিতকরণ, সর্বোপরি আর্থ-সামাজিক ও পরিবেশগত মান উন্নয়ন হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই এলাকার ২২ লক্ষ মানুষ লাভ করবে স্বাভাবিক জীবন যাত্রার নিশ্চয়তা। এছাড়াও এলাকাটি স্থানীয় জনগণের জন্য সুন্দর একটি বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আবাদী এলাকাকে বন্যামুক্ত এবং কৃষি সেচ সুবিধা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে ১৯৬২-১৯৬৮ ইং সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ৫৮ দশমিক ৫ বর্গ কিঃমিঃ জুড়ে ৩৬টি খালের সংযোগের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয় প্রকল্পটি। সময়ের আবর্তে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দূষিত শিল্পবর্জ্য এবং স্থানীয় জনসাধারণের অসচেতনতায় খালসমূহ বর্জ্য আবর্জনায় ভরাট হয়ে যায়। এতে এ এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। যার ফলে অল্প বৃষ্টি হলেই ডিএনডি প্রকল্প এলাকায় যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় তা প্রায় ৩০-৪০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং ডিএনডিবাসীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে ২০১৬ ইং সালের ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিএনডি প্রকল্পকে যুগোপযোগী বাসযোগ্য করার লক্ষ্যে ৫৫৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়। ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনী দায়িত্ব গ্রহণ করে।

জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে ডিএনডিতে ভূমি অধিগ্রহণ, পাম্প ষ্টেশন নির্মাণ, পাম্পিং প্লান্ট নির্মাণ, আরসিসি কালভার্ট নির্মাণ, নিষ্কাশন খাল পুনঃখনন, পুনঃখননকৃত স্পয়েল দ্বারা খালের তীর উন্নয়ন, আরসিসি গার্ডার ব্রীজ, বিদ্যমান ব্রীজ ও কালভার্ট মেরামত এবং অতিরিক্ত সংযোগ খাল পুনঃখনন প্রকল্প গ্রহণ করে। এরমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণসহ এ প্রকল্পের সর্বমোট ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৭৫ ভাগ কাজ।

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes
Scroll Up
error: Content is protected !!