আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ যশোরের মণিরামপুরের রাজগঞ্জ, খুলনার পাইকগাছার পরে এবার ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্ধ ইউনিয়নের টিটা মধুমতি নদীর ওপর নির্মাণ হচ্ছে দেশের তৃতীয় ভাসমান সেতু।
জানা যায়, টগরবন্দ ইউনিয়নের টিটা, টিটা-পানাইল, রায়ের পানাইল, শিকরপুর, ইকড়াইল ও কুমুরতিয়া গ্রামের চারপাশে মধুমতি নদী বেষ্টিত থাকার কারণে গ্রামগুলো মূল ভূখণ্ড থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এই ৬ গ্রামে প্রায় ১২ হাজার লোকের বসবাস।
বংশ পরমপরায় তাদের বছরের পর বছর নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ায় রুদ্ধ হয়ে যায় যাতায়াতের এ মাধ্যমও। এতে অনেক সময় মুমূর্ষ রোগী কিংবা জরুরি কাজে অন্যত্র যাওয়া মানুষকে পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। এই আজন্ম দুর্ভোগ থেকে রেহায় পেতে এ গ্রামবাসীর ৭০ জন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ৭০ লাখ টাকা দিয়ে তহবিল গঠন করে সেখানে নির্মাণ করছে ভাসমান সেতু।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পানিতে ভাসছে লোহার পাত লাগানো শত শত প্লাস্টিকের ড্রাম। তৈরী হচ্ছে ভাসমান সেতু। ৯০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থ এ সেতুটিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ৮৫২ টি প্লাস্টিকের ড্রাম ও ৬০ টন লোহা। পরে দুই পারে কংক্রিটের সংযোগ সেতুর সাথে জুড়ে দেওয়া হবে ভাসমান কাঠামোটিকে।
ভাসমান এ সেতু নির্মাণের একজন উদ্যোক্তা প্রোফেসর লুৎফর রহমান জানান, ‘সরকারি দপ্তরগুলোতে বারবার আবেদনের পরও সাড়া না পেয়ে অবশেষে গ্রামবাসী সকলে একত্রিত হয়ে ভাসমান এ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি।’এ সেতুর নির্মাণকারক যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের রবিউল ইসলাম। সে ইতোপূর্বে দেশের প্রথম ভাসমান সেতু নির্মাণ করেছেন।
এ বিষয়ে রবিউল ইসলাম জানান, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের ১০ জন শ্রমিক নিয়ে তিন মাস ধরে সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু করি। সেতুর উপর দিয়ে ভ্যান, রিকশা ও ইজিবাইকসহ হালকা যান চলাচল করতে পারবে।’পারের জন্য খেয়াঘাটে অপেক্ষমান আয়েশা বেগম নামের এক গৃহবধূ জানান, ‘সেতুটি নির্মাণ হলে তাদের চলাচলের দুর্ভোগ লাঘব হবে, এতে তারা খুবই খুশি।’
টগরবন্ধ ইউপি চেয়ারম্যান ও সেতু নির্মাণের অন্যতম উদ্যোক্তা ইমাম হাচান (শিপন) জানান, ‘গত বছরের ২২ শে নভেম্বর সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। চলতি বছরের মার্চের শুরুতেই সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।’
BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes
Scroll Up
error: Content is protected !!