Home » সংবাদ শিরোনাম » বরগুনায় কৃষকদের সাক্ষর জাল করে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ
বরগুনায় কৃষকদের সাক্ষর জাল করে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ

বরগুনায় কৃষকদের সাক্ষর জাল করে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ

বরগুনা প্রতিনিধি: বেতাগী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কৃষকদের সাক্ষর জাল করে অর্থলোপাট,মাঠ দিবসের টাকা আত্মসাৎ, চাষীদের নামে বরাদ্ধের উপকরণ, সার ও বীজ বিতরণে অনিয়মসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। এছাড়াও কাগজে আছে বেতাগী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বোরো ধান প্রদর্শনীর মাঠ। যার বেশিরভাগ প্রদর্শনীর কোন অস্তিত্বই খুজে পাওয়া যায়নি ফসলের মাঠে। সাধারণ কৃষকদের এমন একাধিক অভিযোগ রয়েছে এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, বোরো ধান চাষে কৃষকদের উদ্ভদ্ধ করতে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে বরগুনার ৬টি উপজেলা কৃষি অফিস ১৫০ জন কৃষককে বাছাই করে ১৫০টি প্রদর্শনী করে। গড় হিসেব অনুযায়ী বেতাগী উপজেলার ২৫টি প্রদর্শনীর কথা কাগজে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এর কোন অস্তিত্বই খুজে পাওয়া যায়নি। প্রতিটি প্রদর্শনীতে কৃষকদের বীজ বাবদ খরচ-২৯০ টাকা, ৫ কেজি বীজ, সার বাবদ ১৪৭৭ টাকা, আন্তঃপরিচর্জা বাবদ ১ হাজার টাকা, রেজিষ্টার বাবদ ৬০ টাকা, সাইনবোর্ড বাবদ ৫০০টাকা, পরিবহন বাবদ ৩০০টাকা, আনুসঙ্গিক ব্যয় ৩০০টাকা। এছারাও ১৫০জন কৃষককে প্রশিক্ষনের জন্য জন প্রতি ১ হাজার টাকাসহ মোট ৩ হাজার ৯শ ২৭ টাকা দেয়ার কথা। কিন্তু যেসব বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার কিছুই জানেন না অধিকাংশ কৃষক। কৃষকদের বক্তব্য তাদের স্বাক্ষর জাল করে এসব অর্থ-লোপাট হয়েছে।
বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ গ্রামের কৃষক সহিদুল ইসলামের নাম রয়েছে এ কাগজের তালিকায়। তালিকানুযায়ী কৃষক সহিদুল পেয়েছেন প্রদর্শনীর সব সুবিধা। তবে এই কৃষক বলছেন প্রদর্শনীর জন্য কোনো প্রশিক্ষনেও তাকে ডাকেনি কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর। প্রদর্শনীর সবকিছু সুবিধা পাওয়াতো দূরের কথা! এই তালিকার স্বাক্ষরও তিনি করেনি। প্রদর্শনীর পুরো তালিকার অবস্থা প্রায় একই রকম। তবে এর মধ্যে কোন কোন কৃষক পেয়েছে শুধু বীজ ধান, আবার কেউ পেয়েছে শুধু সার। তালিকায় থাকা সব কিছু পেয়েছে এমন কৃষক নেই একজনও।
কাগজের বর্ননায় দেখা যায়, বেতাগী উপজেলায় কৃষকদের তালিকা করা থেকে প্রদর্শনী বাস্তবায়নের সব দায়িত্ব ছিলেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মহাসিন ও সামসুন নাহার। তবে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মুখ খুলেননি মহাসিন। আর সামসুন নাহার নামে আরেক উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে খুজে পাওয়া গেলেও, তিনি l দায়ভার এড়িয়ে বলছেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইকবাল হোসেনের কথামতো কাজ করেছেন সে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসব অভিযোগ অস্বিকার করেন অভিযুক্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন এবং বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবো না। আমার কিছু মনে নেই।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা (পরিচালক) মোঃ মতিউর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত  হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে। বেতাগী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মো. রাজিব আহসান বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কিছু অভিযোগের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখবো এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes
Scroll Up
error: Content is protected !!