Home » আন্তর্জাতিক » ইরানের সামরিক শক্তি
ইরানের সামরিক শক্তি

ইরানের সামরিক শক্তি

আওয়াজ অনলাইনঃ  সেনাবাহিনী –  ইরানের সেনাবাহিনীতে ৫ লাখেরও বেশি সদস্য। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) দেড় লাখ সদস্য। ইরানে ইসলামী নিয়ম বজায় রাখতে ৪০ বছর আগে আইআরজিসি তৈরি করা হয়। এটি এখন দেশটির প্রধান সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্থা।

নিহত জেনারেল সোলাইমানির নেতৃত্বাধীন কুদস ফোর্স আইআরজিসির হয়ে বিদেশে গোপন অভিযান পরিচালনা করতো এবং সরাসরি ইরানের সুপ্রিম লিডারের কাছে রিপোর্ট করতো। দেশটির সেনাবাহিনীতে ট্যাংক সংখ্যা ১,৬৩৪। সাঁজোয়া যানের সংখ্যা ২,৩৪৫।

সেনাসদস্যের ব্যবহারের জন্য কামান রয়েছে ২,১২৮টি। পাশাপাশি ৫৭০টি সেলফ প্রপেলড আর্টিলারি (স্বয়ংক্রিয় কামান) এবং এক হাজার ৯০০টি রকেটচালিত কামান রয়েছে। এছাড়া দেশটির সামরিক প্রশিক্ষিত জনসংখ্যা ২ কোটি ৩৬ লাখ ১৯ হাজারের বেশি।

বিমানবাহিনী: ইরানের বিমানবাহিনীতে ৫০৯টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে – ফাইটার বিমান ১৪২টি, অ্যাটাক বিমান ১৬৫টি, হেলিকপ্টার ১২৬টি ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার ১২টি। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের জন্য ১০৪টি ও পরিবহনের জন্য ৯৮টি উড়োজাহাজ রয়েছে তাদের। তবে এখন পর্যন্ত স্বীকৃত কোনো স্টেলথ ফাইটার বিমান নেই তাদের।

নৌবাহিনী:  ইরানের নৌবাহিনীতে কোনো এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার নেই। তাদের ফ্রিগেট রয়েছে ছয়টি, করভেট রয়েছে তিনটি এবং ৩৪টির মতো সাবমেরিন রয়েছে। ইরানের ৮৮টি পেট্রোলবোট ও তিনটি মাইন ওয়্যাফেয়ার রয়েছে। এই বাহিনীতে কোনো ডেস্ট্রয়ার নেই।

দেশের বাইরে সফল অভিযান: ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী বাহিনী বলা হয় বিপ্লবী গার্ডসকে। এ বাহিনীর বিদেশি অভিযানের দায়িত্বে রয়েছে আল-কুদস ফোর্স, যার প্রধান ছিলেন মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানি।

মূলত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়া আর কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয় না কুদস ফোর্সকে। বিদ্রোহীদের হাত থেকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল-আসাদকে সুরক্ষায় সেখানে এ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। এছাড়া ইরাকে শিয়া নিয়ন্ত্রিত আধা সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করে আসছে কুদস ফোর্স। জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে ইরাকের এসব বাহিনী।

ইরানের প্রতিরক্ষা খাতে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে যে পরিমাণ আমদানি হয়েছে, তা সৌদির আরবের মোট সামরিক আমদানির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মাত্র। ইরানিরা সামরিক খাতে বেশি আমদানি করেছে রাশিয়া থেকে। এরপরে তাদের আমদানির তালিকায় দ্বিতীয় রয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের মতে, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড়। বিশেষ করে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।

ড্রোন সক্ষমতা: কয়েক বছরের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান তার ড্রোন সক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়েছে। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ২০১৬ সাল থেকেই ইরাকে ড্রোন ব্যবহার করে ইরান। ২০১৯ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোনকে ভূপাতিত করে ইরান। মিত্রদের কাছে ড্রোন প্রযুক্তি স্থানান্তর বা বিক্রিও করেছে ইরান। ২০১৯ সালেই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল সৌদি তেল ক্ষেত্রে। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র এজন্য ইরানকেই দায়ী করেছিল। যদিও তেহরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।

সূত্র: বিবিসি

লাইক ও শেয়ার করুন:
BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes
Scroll Up
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error: Content is protected !!