Home » আইন-আদালত » উল্লাপাড়ায় আওয়ামিলীগ নেতা গৃহবধূ কে চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় ডিসি,এসপি ও ওসির কাছে ব্যখা চেয়েছে হাইকোর্ট
উল্লাপাড়ায় আওয়ামিলীগ নেতা গৃহবধূ কে চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় ডিসি,এসপি ও ওসির কাছে ব্যখা চেয়েছে হাইকোর্ট

উল্লাপাড়ায় আওয়ামিলীগ নেতা গৃহবধূ কে চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় ডিসি,এসপি ও ওসির কাছে ব্যখা চেয়েছে হাইকোর্ট

রায়হান আলী উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মিথ্যা চরিত্রহীনার অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগ নেতা এক গৃহবধুর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার হাইকোর্ট এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি), জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এবং উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ৩দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবার আদেশ দিয়েছেন। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল হাসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের দ্বৈত বেঞ্চ (অ্যানেক্স-২৫) এই আদেশ প্রদান করেন।

ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল ব্যারিষ্টার এবি এম বাশার গণমাধ্যম কর্মীদেরকে জানান, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান সোমবার উক্ত আদালতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত উল্লাপাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ কর্তৃক এক নারীকে চুল কেটে দেওয়া ও অন্যায় ভাবে তার পরিবারকে হুমকি প্রদর্শন সম্বলিত সচিত্র প্রতিবেদন এবং ভিডি ক্লিপ প্রদর্শন করেন। এসময় নেতাদের কথায় পুলিশ ওঠাবসা করলে আইনের শাসন থাকে না বলে মন্তব্য করেন আদালত। সংবাদ মাধ্যম আসামীকে খুঁজে পেলেও পুলিশ কেন তাদের খুঁজে পায় না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আদালত।

পরে বিজ্ঞ আদালত সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ফারুক আহমেদ, জেলা পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী এবং উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর শাহীন শাহ পারভেজকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে আগামী ১১ ডিসেম্বর বুধবারের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেবার নির্দেশনা দেন।

উল্লেখ্য উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ গত ২৫ নভেম্বর উপজেলার গজাইল গ্রামের এক গৃহবধুর বিরুদ্ধে মিথ্যা চরিত্রহীনতার অভিযোগ এনে বটি দিয়ে তার চুল কেটে দেন। চুল কেটে দেওয়ার ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছেড়ে দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ নেতার অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গৃহবধুকে এই নির্যাতনের শিকার হতে হয়। নির্যাতিত মহিলা আওয়ামী লীগ নেতা ও তার সহযোগীদের ভয়ে তার দুই সন্তানকে নিয়ে তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে স্বজনদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ২ ডিসেম্বর উল্লাপাড়া মডেল থানায় ওই আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ৪ সহযোগীদের বিরুদ্ধে শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা করার পর আসামী পক্ষ বাদির পরিবারকে নানা ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। ফলে নির্যাতিত এই গৃহবধু এখন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে রোববার দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ পত্রিকায় “উল্লাপাড়ায় অপবাদ দিয়ে গৃহবধুর চুল কর্তন, আওয়ামী লীগ নেতার হুমকিতে ভিকটিম বাড়ি ছাড়া” শিরোনামে রোববার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

BIGTheme.net • Free Website Templates - Downlaod Full Themes
Scroll Up
error: Content is protected !!